ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের সাথে বিসিবি প্রেসিডেন্টের জরুরি বৈঠক
- 10 Sep 2026
- 44
প্রায় মাস দুয়েক আগে একটি প্রয়োজনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) গিয়েছিলাম। তামিম ইকাবাল খানের সাথে সাক্ষাৎ করাটাই প্রয়োজন ছিল সেদিন। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে বিসিবির নতুন প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল। বিসিবিতে গিয়েই তাকে পেয়ে যাই। বিভিন্ন কথায় কথায় ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতার প্রসংগ চলে আসে তামিম। ওখানে আরো ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক এবং চিফ সিলেক্টর মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং আরো একজন ক্রিকেটার নাদিফ চৌধুরী।
নাদিফ চৌধুরী এখন বিসিবির সিলেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। যেটা বলছিলাম - তামিম ইকবাল জানালেন ইদানিং ওয়ালটনকে ক্রিকেটে আগের তুলনায় কম পাচ্ছি। আমরা আগের মত আরো বেশি বেশি ওয়ালটনকে পাশে চাই ক্রিকেটের উন্নয়নে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে হঠাৎ তামিম বললেন - মিলটন ভাই, আপনার ওই স্যারের সাথে কথা বলতে চাই। বেশ আগে একবার কথা বলেছিলাম, উনার সাথে। স্যারের নামও বললেন তামিম। আমি বললাম - ওহ, আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান স্যার। হ্যা হ্যা ওই স্যার বললেন তামিম। স্যারকে একটা ফোন দেন মিলটন ভাই, আমার কথা বলেন যে একটু কথা বলতে চাই। আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম। এভাবে হঠাৎ করে স্যারকে ফোন দেয়াটা কেমন দেখায়।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট— যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) কে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি এগুলোকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আদলে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এই নতুন পথচলায় ওয়ালটনকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল হিসেবে পাশে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বিসিবিতে অফিসে তামিম ইকবালের সাথে রবিউল মিলটন
স্যারের ব্যস্ততার কথা ভাবলাম। কিন্তু বিসিবি প্রেসিডেন্ট কথা বলতে চাইছেন সেটাও তো রাখতে হয়। স্যারকে ফোন করলাম। স্যারকে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করার পর স্যার জানতে চাইলেন কি বিষয়। আমি স্যারকে তামিম ইকবালের কথা জানালাম। ওয়ালটনের ভাইস চেয়ারম্যান স্যার অত্যন্ত আন্তরিকতা দেখালেন।
ফোনটা তামিম ইকনালকে দিতে বললেন। দিলাম। তামিম ইকবাল নিজের ক্রিকেট জিবনের শুরু থেকে ওয়ালটনকে মাঠে পেয়েছে এ সকল স্মৃতিচারন করলেন স্যারের সাথে। তামিম কৃতজ্ঞতাও জানালেন। ওয়ালটনের ভাইস চেয়ারম্যান আমাদের সবার প্রিয় আশরাফুল আলম স্যার দারুন বিনয়ের সাথে বললেন আমরা ওয়ালটন পরিবার শুধু ক্রিকেট নয়, সবধরনের খেলাধুলার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করছি। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রচার উপলক্ষেই নয় বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই মুলত বেশি আগ্রহ নিয়ে করি। তামিম স্যারকে জানালেন আপনার অফিসে একদিন কফি খেতে যেতে চাই। স্যার খুশি হয়ে বললেন - অবশ্যই। আরো কয়েক মিনিট কথা বলার পর স্যার আমাকে জানালেন ব্যবস্থা করতে। বলা
যায় সেভাবেই আমরা দিন তারিখ ঠিক করি। এই আলোচনার প্রায় মাস খানেক পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল (গত ২৫ আগস্ট, ২০২৬) তারিখে ঢাকার বসুন্ধরার ওয়ালটন করপোরেট অফিস পরিদর্শন করেছেন। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগ করার লক্ষ্যে তিনি এই পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন ও বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
ওয়ালটন করপোরেট অফিসে তামিম ইকবাল
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য: বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট— যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) কে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি এগুলোকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আদলে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এই নতুন পথচলায় ওয়ালটনকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল হিসেবে পাশে পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যেহেতু ওয়ালটন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, তাই ওয়ালটনের কাছে বিসিবির চাওয়াও একটু বেশি। ওয়ালটন প্রায় ষোল সতের বছরেরও অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশেষ করে ঘরোয়া লীগ বা টুর্নামেন্টের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে।
বিসিবি প্রতিনিধি দল: তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও যারা ছিলেন তাদের মধ্যে বিসিবি সহ-সভাপতি ফাহিম সিনহা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের চেয়ারম্যান মাসুদ উজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ রাব্বানী, বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম, মার্কেটিং এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের আসিফুল ইসলাম বিলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ওয়ালটনের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা: ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি'র পক্ষ থেকে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম। তারা ফুল দিয়ে অতিথিদের অর্থ্যাত বিসিবি সভাপতি ও অন্যান্যদের স্বাগত জানান। এসময় আরো যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন প্রতিষ্ঠানের সিএফও জিয়াউল আলম, সিএমও জোহেব আহমেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহজালাল হোসাইন লিমন, সিনিয়র এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো: রবিউল ইসলাম মিলটন অর্থ্যাত আমি নিজে।
শুরু থেকেই যেহেতু পুরো কো অরডিনেটর হিসেবে আমি ছিলাম তাই এই পরিদর্শন অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বের অনেকটাই আমাকে পালন করতে হয়েছে। আর এ বিষয়ে সত্যি বলতে সিএমও জোহেব আহমেদ এবং ভাইস চেয়ারম্যান স্যারের বিজনেস কো অরডিনেটর শাহজালাল হোসাইন লিমন ভাইয়ের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতা: ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে যুক্ত এটি দেশের প্রায় সকল ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ জানেন। ওয়ালটন এনসিএলের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে টানা পনের বছর, প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ তের সিজন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) ওয়ালটন ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে নয় বছর ছিল। সেখানে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন তুন বছর চ্যামপিয়ন এবং একবছর রানার্সআপ হয়। আমার সৌভাগ্য যে আমি এই দলের টিম ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। এখানে একটি বিষয় না বললেই নয়। সেটি হল, এই ধরনের ক্রিকেটে বা দলের ম্যানেজার হওয়ার প্রথম যোগ্যতার অন্যতম হল ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার হতে হবে।
আমিই মনে হয় একমাত্র ম্যানেজার যে কিনা কখনো ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলিনি। যাই হোক, বিসিবি আসন্ন তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টের একটি প্রেজেন্টেশন আমাদের সামনে উপস্থাপন করবে বলে আমাদের আগেই জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী ওয়ালটন থেকে বড় এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করেছিল। ওয়ালটন করপোরেট অফিসের ডিরেক্টরস জোনে সুবিশাল ডাইনিং টেবিল জুড়ে হরেকরকম খাবারের আয়োজন ছিল তামিমসহ আগত অতিথিদের জন্য। বিকাল তখন পাঁচটা পেরিয়েছে।
নাস্তার আয়োজনের টেবিলে সবাই বসেই বিসিবির প্রেজেন্টেশন দেখা মাত্র শুরু হয়েছে। এরমধ্যে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমাদের জানালেন যদি কিছু মনে না করেন তাহলে এখানে এভাবে নয় বরং আপনাদের সাথে আলাদা বসে কথা বলতে চাই। ওয়ালটনের মাননীয় এমডি এবং ভাইস চেয়ারম্যান স্যার সম্মতি দিলেন। তামিম ইকবালের সিদ্ধান্ত ভালোই ছিল পরে বুঝলাম।
আমরা সবাই ডাইনিং থেকে উঠে এমডি স্যারের কক্ষে গিয়ে বসলাম। তবে সবাই না। যে কয়জন না থাকলেই নয়। বিসিবির উচ্চ পদস্থ সবাই ছিলেন। ওয়ালটনেরও তাই। সেখানে তামিম কোন রাখঢাক না রেখেই সরাসরি আলেচনায় ঢুকলেন। ডিজিটালি যে প্রেজেন্টাশনটা দেয়া শুরু হয়েছিল ডাইনিং প্রেমিসিসে সেটা তামিম সুন্দরভাবে বর্ননা করলেন। বিসিবি প্রেসিডেন্ট এমনভাবে তার বোর্ডকে প্রেজেন্ট করলেন এবং সুন্দর করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের কাছে তার চাওয়া চাইলেন যে ওয়ালটন না করতে পারেনি।
সম্মতি একপ্রকার দিয়েই দিলেন ওয়ালটনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর। আর ওয়ালটন তো আগে থেকেই খেলাধুলা অন্ত:প্রান একটি প্রতিষ্ঠান। শুধু ক্রিকেট কেন দেশের সবধরনের অপ্রচলিত খেলাধুলায়ও ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছে বছরের পর বছর। সর্বোপরি, এই বৈঠকের পর বিসিবি কর্তৃপক্ষ দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ শক্তিশালী করতে এবং নতুন প্রতিভাদের বিকাশে বিসিবির পাশে থাকার ব্যাপারে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষকে আরো জোরালোভাবে অনুরোধ করেছে। ওয়ালটনও তাদের অনুরোধ আমলে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।